
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মো. ফয়সাল নামে স্থানীয় এক মুদি-দোকানদার থেকে দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে রাতের আঁধারে ওই ব্যবসায়ীর দোকানঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ একটি কিশোরগ্যাং গ্রুপের বিরুদ্ধে। এতে দোকানে থাকা নগদ টাকা ও মালামাল পুড়ে গিয়ে অন্তত তিন লাখ টাকার ক্ষতিসাধণ হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ীর।
রবিবার (১৭ আগষ্ট) মধ্যরাতে উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মোহাম্মদপুর হাজী সফিউল্লাহ সমাজে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ফয়সাল অভিযোগ করে জানান, গত (১৬ আগষ্ট) শনিবার রাতে তার দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা দোকানে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ও ১২ কার্টুন মালামাল নিয়ে যান। সকালে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন একই এলাকার আবদুল মালেক বেচুর ছেলে রিয়াজ (২৫) ও আজাদ নামের আরেক যুবক মিলে দোকানটিতে চুরি করে। পরে দু’জনকে আটক করলে চুরির কথা স্বীকার করায় দুই চোরের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন স্থানীয়রা। তবে ভুক্তভোগী এ রায় না মেনে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ দুজনকে আটক করে চুরির মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। পরের দিন জামিনে আসেন তারা।
ভুক্তভোগী আরও জানান, অভিযুক্ত রিয়াজ ও আজাদ জামিনে মুক্ত হয়ে রবিবার সন্ধ্যায় বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৫০-৬০ জন কিশোরগ্যাং সদস্যদের নিয়ে এসে দোকানে থাকা ফয়সালের বাবা আবুল কালামের থেকে পাওনা থাকার কথা বলে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় লোকজন জড়ো হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংশ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে মধ্য রাতের কেনো এক সময় দোকানে আগুন দেয় তারা। ফজরের নামাজ পড়তে মুসল্লীরা মসজিদে যাওয়ায় সময় দোকানে আগুন জ্বলতে দেখে সোর-চিৎকার করলে লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততোক্ষনে দোকানে থাকা মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ বিষয়ে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান এই ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত রিয়াজ ও আজাদের সাথে কথা বলতে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন রিসিভ করেননি তারা। খোঁজ নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়নি।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি তহিদুল ইসলাম জানান, এবিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কিছু জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।