লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর আবদুল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আ ন ম আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে ৭০ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মাদ্রাসা মাঠে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত সোমবার থেকে তারা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নামেন। অধ্যক্ষের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জন ও আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন অধ্যক্ষ। তাছাড়া মাদ্রাসায় জমি দাতাদের সাথে প্রতারণা, নিয়োগ বানিজ্য, বেতন, ও বিভিন্ন খাতে বিস্তর অনিয়ম করেছেন তিনি। দ্রুত তদন্তপূর্বক অধ্যক্ষের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার বাংলা প্রভাষক আবু বকর ছিদ্দিক ও আরবী প্রভাষক মাও,জোবায়ের আল হোসাইন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক মোঃ আজাবুল হোসেন,প্রভাষক মোঃ আবদুল হালিম,শিক্ষক আহমদ উল্ল্যাহ,কামাল উদ্দিন, মোঃ গোলাম কিবরিয়া মোঃ আলা উদ্দিন, অঞ্জন চন্দ্র দাস,রবি শংকর চন্দ্র দাস
জিন্নাত ফারহানা সহ সকল শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বাংলা প্রভাষক আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর পর্যন্ত অধ্যক্ষ নিজে একাদিক পদে, নিজের মেয়ে, আত্মীয় স্বজন এবং তার অনুগত ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি নিয়ে মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠন মাদ্রাসার বিভিন্ন উৎস থেকে আদায়কৃত আনুমানিক ৭০ লাখ টাকা তছরুপ করে।
স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিরীক্ষা কমিটি না থাকায় নিজের ইচ্ছামত মাদ্রাসার আদায়কৃত টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত না রেখে নিজের অনুগত হিসাব সহকারীর হাতে রেখে ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয় সে।
শিক্ষকগন বিভিন্ন সময় হিসাবের প্রসঙ্গ তুললে তিনি সভাপতি মহোদয় ছাড়া অন্য কাউকে হিসাব দেওয়া যাবেনা বলে আক্রমনাত্বক আচরণ করেন এবং এই প্রসঙ্গে যারা কথা বলতেন তাদেরকে অপমান অপদন্তসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন।
শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র আটকিয়ে রেখে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন,মন্ত্রনালয়ের অডিটের সময় অডিটরের সাথে যোগসাজশে শিক্ষকদের কাগজপত্র যথাযথভাবে প্রদর্শন না করে শিক্ষকদেরকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করেছেন।
মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী কাউকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বেতন-ভাতা দেওয়া হয়না। প্রতিষ্ঠানের সকল আয় অধ্যক্ষ নিজে আত্মসাৎ করেন।
অধ্যক্ষ সাহেব মাদ্রাসায় আসেন না। মাসে ২-১ বার এসে হাজিরা খাতায় সাক্ষর করে চলে যান।
আন্দোলন প্রসংগে বলেন, মাদ্রাসার ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সম্রাট খীসা বরাবর এ বিষয়ে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
এমতাবস্থায় মাদ্রাসার তছরুপকৃত অর্থ উদ্ধার এবং অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তের জন্য স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিরীক্ষণ কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আমাদের এ আন্দোলন চলমান থাকবে।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আ ন ম আবুদুল হাকিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানের কোন আয় নেই তাই শিক্ষক-কর্মচারীকে বেতন দেওয়া যাচ্ছেনা। এছাড়া টিউশন ফির টাকা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে খরচ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সম্রাট খীশার মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।