লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে শাহজাহান নামে পৌরসভার এক কার্যসহকারীকে প্রকাশ্য গুলি করার হমকি দিয়েছেন এক ঠিকাদার।
বৃহস্পতিবার (৭ আগষ্ট) দুপুর দেড়টায় রামগতি পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলীর কক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রামগতি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জানা যায়,া চলতি বছরের ১৪ মে তারিখে
ইমপ্রুভিং আরবান গভর্নেন্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্টের (IUGIP) আওতাধীন প্রকল্পের বিপরীতে রামগতি পৌরসভার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১৭টি রাস্তার প্রায় এগারো কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের অনুকুল ২৩ কোটি টাকার একটি কার্যাদেশ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডিএইচবি মেক ( MDHB MAC)
এর স্বত্বাধিকারী মেসার্স দেলোয়ার হোসেন বাবুল। পরে ২৩ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারিত ওই প্রকল্পটি
লক্ষ্মীপুরের বাহাদুর মিয়ার ছেলে এ.বি.এম. সাইফ উদ্দিন পিন্টু ১৫ পার্সেন্ট কমিশনে ঠিকাদার নিযুক্ত হন।
তবে কয়েকমাস অতিবাহিত হলেও ঠিকাদার পিন্টু যথাসময়ে কাজ শুরু না করে গড়িমসি করে চলেছেন।
ইতোমধ্যে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ঠিকাদারকে দুই দফায় চিঠি এমনকি একাধিকবার ফোনে কাজ শুরু করার তাগিদ দিয়ে আসলেও আমলে নেননি সাব-ঠিকাদর পিন্টু।
পৌরসভার একটি সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় (আইইউজিআইপি) প্রকল্পের আওতায় ১৭ টা রাস্তার প্রায় ১১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণ প্রকল্পের বিপরীতে ২৩ কোটি টাকায় বরাদ্দ হয়। ওই প্রকল্পের বিপরীতে মেসার্স দেলোয়ার হোসেন বাবুল ঠিকাদার নিযুক্ত হন। তার পক্ষে সাব-ঠিকাদার হিসেবে এবিএম সাইফুদ্দিন (পিন্টু) কাজ করার কথা। ২০২৫ সালের ১৪ মে তারিখে প্রকল্পটির অনুকুলে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কিন্ত ঠিকাতার গড়িমশি করে কাজ শুরু করেননি। পৌর কর্তৃপক্ষ কাজ শুরুর জন্য দুইবার চিঠি দিলে সে কোন উত্তরও দেননি। শুধু সময়ক্ষেপন করেন।
এরই মধ্যে (আজ) হঠাৎ কাজ শুরু করার জন্য সাব-ঠিকাদার পিন্টু আসেন পৌর কার্যালয়ে । কাজ বুঝে নেয়ার জন্য স্বংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে ফোন করলে তিনি কাজ বুঝে নেয়ার জন্য কার্যসহকারী শাহাজাহানের কাছে যেতে বলেন। শাহাজাহানের টেবিলে গেলে সেখানে শাহজাহানের সাথে তু্চ্ছ কথা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় পিন্টুর। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রুপ নেয়। এ সময় ঠিকাদার পিন্টু কার্যসহকারী শহাজাহানকে প্রকাশে গুলি করার হুমকি দেন।
এ সময় শাহাজানের পিন্টুর তর্কবিতর্ক তুমুল পর্যায়ে গড়ালে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
এ বিষয়ে কার্যসহকারী শাহাজাহান জানান , ঠিকাদার যে রাস্তাটিতে কাজ শুরু করতে চেয়েছেন ওই রাস্তায় পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার কাজ চলামান থাকায় ঠিকাদারকে অনুরোধ করেছি ওই রাস্তায় কাজ আপাতত না করার জন্য। এতে ঠিকাদার উত্তেজিত হয়ে আমাকে গুলি করার হুমকি দেন।
ঠিকাদার সাইফ উদ্দিন (পিন্টু) বলেন, আমি কাজ বুঝে নেয়র জন্য প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনি আমাকে কার্যসহকারী শাহাজানের কাছে পাঠান। এতে আমি কিছুটা বিব্রতবোধ করি। এ বিষয়টাকে নিয়ে শাহাজান ও তার ভাই ড্রাইভার সুমন আমাকে চরম ভাবে লাঞ্চিত করে। আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।
পৌর প্রশাসক ও ইউএনও সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি কিছুক্ষণ আগে শুনেছি, দুপক্ষকে ডেকে বিষয়টি মীমাংশা করে দেব।