শনিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, সকাল ৬:৩২

বেগম খালেদা জিয়ার ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’তে জীবন মৃত্যের সন্ধিক্ষণে দাড়িয়ে ছিলেন উল্লাপাড়ার কন্যা এ্যাড. সিমকী ইমাম খান

59Shares

এনামূল হক :  : ৫ জানুয়ারী ২০১৪। বাংলাদেশে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে৷ প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট এই নির্বাচন বর্জন করায় ১৫৪টি আসনে ভোটাভোটির দরকার হচ্ছে না৷ এসব আসনে একজন করে প্রার্থী রয়েছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ না করার ঘোষণা দিয়েছে৷ আর এই জাতীয় নির্বাচনকে প্রতিহত করতে ২৯ ডিসেম্বর ২০১৩ইং তারিখ থেকে বেগম খালেদা জিয়া ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ নামে নতুন কর্মসূচী দেন। অর্থাৎ গনতন্ত্রের জন্য ঢাকা অভিমুখে যাত্রা ২৯ ডিসেম্বর ২০১৩ থেকে.. দলীয় ও জোট নেতাকর্মী সহ সব শ্রণী-পেশার মানুষ কে শরীক হতে বলছেন এ ব্যাতিক্রমী কর্মসূচীতে। বাংলাদেশের আপামর জনগন সাধুবাদ জানায় এ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীকে। তবে এটা নিঃসন্দেহে কৌশলী আন্দোলন হতে হওয়ার কারণে বিভ্রান্তিতে পড়ে আওয়ামী সরকার । অব্যাহত অবরোধ আন্দোলনে যখন অচল দেশ, তখনই ইউটার্ণ… স্বস্তি পেল জাতি, তবে কথা থেকে গেল… হাজারো প্রশ্ন সামনে এলো, রাজনীতির বল ঠেলে দেয়া হলো সরকারী সীমানায়। ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ বা ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’য় অংশ নিতে রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৩ইং তারিখে স্থানীয় সময় দুপুর তিনটার দিকে গুলশানের বাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া৷ কিন্তু তাঁর পথরোধ করতে বাড়ির গেটে মানব দেয়াল তৈরি করে পুলিশ এবং ব়্যাবের সদস্যরা৷ গাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া৷ এসময় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন৷ উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে খালেদা বলেন, ‘‘দেশ আজ কোথায় যাচ্ছে? এরা সবাই গোপালগঞ্জের৷ গোপালগঞ্জের নামই বদলে যাবে৷’’ নিরাপত্তা বাহিনীর বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি খালেদা জিয়া৷ তবে তিনি বাড়ির মধ্যে ফিরে যাবার আগে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘‘এই সরকার জালেম এবং অগণতান্ত্রিক৷ এই সরকারের পতন হবেই৷’’ এসময় তিনি ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ সোমবারও চলবে বলে ঘোষণা দেন৷ এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার ডাকা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’য় যোগ দিতে সুপ্রিমকোর্টের বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা কোর্টের মূল গেট দিয়ে মিছিল করে নয়াপল্টনে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের জল কামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আটকে দেয়৷ এরপর ভিতরে গিয়ে আইনজীবীগণ মিছিল করতে থাকেন। সেই মিছিলে নিরস্ত্র আইনজীবীদের উপর বহিরাগত আওয়ামী লীগ, যুব লীগ ও ছাত্র লীগের নেতা কর্মীরা তাদের উপর আক্রমণ করে সেই আক্রমণ থেকে একজন নারী আইনজীবীও বাঁধ পরেনি। সেখানে কয়েকজন আইনজীবী আহত হন৷ সুপ্রিম কোর্ট থেকে মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে যেতে নেতৃত্ব এক নারী আইনজীবী। আর এই নারী আইনজীবীকে  নির্যাতনের করতে থাকে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী। নারী আইনজীবির উপর হামলার ছবি মুহুর্তের মধ্য ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে৷ সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের উপর আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলার সময় পুলিশ ছিল কার্যত নিরব দশর্ক৷ টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে স্পষ্টতই পুলিশের নিরবতা দেখা গেছে৷ তখন আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলার শিকার এক নারী আইনজীবীকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন সাংবাদিকরা৷ ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর আলোকচিত্র সাংবাদিক সানাউল্লাহ হক নিজের পিঠ পেতে রক্ষা করেন নারী আইনজীবীকে৷ আর  এই নারী আইনজীবী  সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার নেওয়ারগাছা গ্রামের মরহুম আলহাজ্ব হাসান ইমাম এর কন্যা সিমকী ইমাম খান। এভারেস্টজয়ী বাংলাদেশি মুসা ইব্রাহিমও ফেসবুকে নারী আইনজীবীকে পেটানোর ছবি শেয়ার করেছেন৷ তিনি প্রশ্ন করেছেন, ‘‘একজন নারীকে লাত্থি ও লাঠিপেটা করাকে রাজনৈতিক সহিংসতা বলে চালিয়ে দেবেন? তার চেয়েও বড় এবং জঘন্য ব্যাপার: জাতীয় পতাকায় মোড়ানো লাঠি দিয়ে একজন নারীকে পেটানো৷ এতে কি জাতীয় পতাকার অবমাননা হয় না? মুসা মনে করেন, ‘‘জামাত-শিবির অথবা স্বাধীনতার পক্ষের তকমাধারী – কারো কাছেই জাতীয় পতাকা আজ নিরাপদ নয়…৷” কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক সওগাত আলী সাগর লিখেছিলেন, ‘‘বিশ্বজিৎ বেচারা দর্জির পোলা! তার নৃশংস খুন হওয়া ক্যামেরাবন্দী করতেই ব্যস্ত ছিল সব ক্যামেরাওয়ালা৷ এই আইনজীবীটির বেলায় অন্তত একজন ‘ক্যামেরাওয়ালা’ মানুষ হয়ে উঠেছিলেন৷ স্যালুট সানা, আপনাকে স্যালুট৷ আপনি কেবল ‘ক্যামেরাওয়ালা’ থাকেন নি৷ মানুষ হয়ে উঠেছিলেন৷” নারী আইনজীবীর উপর হামলাকারীদের শাস্তিও দাবি করেছেন সাগর৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘আর ওই অমানুষগুলো, যারা একজন মায়ের সম্মান দিতে শিখেনি, ওই দুবৃর্ত্ত গুলোকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হউক৷” এবিষয়ে এ্যাড.সিমকী ইমাম খান বলেন, মার্চ ফর ডেমোক্রেসির ঐ হামলার পর আমি শারিরীক ভাবে খুবই অসুস্থ। অসুস্থ থাকার পরও স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে আমি এক মুহূর্তের জন্য পিচপা হয়নি। আন্দোলন সংগ্রামে আমি ঢাকার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের প্রতিটি কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেছি। কর্মসূচীর পাশাপাশি উল্লাপাড়া সলংগার দলের নেতা কর্মীদের আপদ বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। কোন হামলা মামলায় আমাকে পিছিয়ে দিতে পারে নাই। তিনি আরও বলেন, যে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই করেছি সেই অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সামনে নির্বাচন সেই নির্বাচনে ধানের শীষ কে বিজয় করার জন্য উল্লাপাড়া সলংগার মাঠে ঘাটে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।

59Shares

শেয়ার করুন