
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে একাই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আমজাদ হোসেন । ৩৫
তম বিসিএস প্রশাসনের এ কর্মকর্তা ইউএনও কার্যালয়ের পাশাপাশি রামগতি উপজেলা পরিষদের প্রশাসক, রামগতি পৌরসভার প্রশাসক এবং নিজ দফতরের দায়িত্ব পালন করছেন।
২৫ অক্টোবর ২০২৩ সালে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন সৈয়দ আমজাদ হোসেন । যোগদানের পর থেকেই দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। শুধু দাফতরিক কাজ নয়, উপজেলার অনেক মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্বও তিনি সফলভাবে পালন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রকে অপসরণ করা হয়। পরে দু’টি দফতরের প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি ।
এদিকে পৌর মেয়রকে অপসরণ করা হলে প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। উপজেলা চেয়ারময়ান শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেলকে অপসারণ করা হলে ওই দফতরের প্রশাসক নিয়োগ হন তিনি। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দফতরের দায়িত্ব একাই সামলাতে হচ্ছে ইউএনওকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউএনও অফিস ও উপজেলা পরিষদ একই ভবনে অবস্থিত হওয়ায় তিনি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সপ্তাহে তিন-চার দিন পৌরসভা অফিসে বসেন, যাতে জনগণ সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের পাশাপাশি সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসে থেকে অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এতো বেস্ততার মধ্যেও প্রায়ই উপজেলায় অনিয়মের বিভিন্ন বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করতে দেখা যায় এই ইউএনওকে।
এ প্রসঙ্গে ইউএনও সৈয়দ আমজাদ হোসেন যোগাযোগ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নিয়মাতান্ত্রিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দফতরের দায়িত্ব পড়েছে আমার ওপর। প্রতিটি দফতরের দায়িত্বই সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার চেষ্টা করছি। যদিও আমার জন্য এটা অনেক বড় চাপ। তারপরও সরকারি বিধান পালন করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করছি। দায়িত্বের পরিধি বড় বা ছোট নয়, বরং কাজটাকে আন্তরিকভাবে করা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যতদিন এখানে আছি, ততদিন জনগণের কল্যাণে কাজ করবো। আমি বিশেষভাবে নিশ্চিত করতে চাই, যেন কেউ কোনও হয়রানির শিকার না হন। জনগণ আমাকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছে, এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।